ভারতের গোয়েন্দা (Intelligence bureau) অথবা প্রতিরক্ষা সংস্থা (Security) থেকে অবসরপ্রাপ্ত কোন কর্মী বা আধিকারিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানের অনুমতি ছাড়া নিজের কর্ম জীবনের কোন বই প্রকাশ করতে পারবেন না। 'মিনিস্ট্রি অফ পার্সোনাল, পাবলিক গ্রিভানসেস অ্যান্ড পেনশনস'-এর তরফে সোমবার এক নির্দেশিকা জারি করে একথা বলে হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই সংস্থা গুলির সঙ্গে যুক্ত কোন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী কিংবা আধিকারিক তাঁর কর্ম জীবনে প্রাপ্ত কোন নথি কিংবা জরুরি ডকুমেন্ট সর্বসমক্ষে আনতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁর কর্ম জীবনে ঘটা কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা বই কিংবা লেখা সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করতে পারবেন না। এতে দেশের সামগ্রিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বোর্ড। শুধু তাই নয়, কোন ব্যক্তি যদি এর অন্যথায় কাজ করেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক একাংশের মতে, এমন জরুরি নথির উপর ভিত্তি করে কোন বই প্রকাশ পেলে দেশের গোপন তথ্য চলে যেতে পারে অন্য দেশ গুলির হাতে। বিশেষত চিন কিংবা পাকিস্তানের হাতে চলে যেতে পারে এই গোপন তথ্য। যা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাংশ। বিশেষ করে সেনাবাহিনী, ডিআরডিও, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স, সিবিআই প্রভৃতি জায়গায় কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী আধিকারিকদের কাছে এমন বহু জরুরি তথ্য, গোপন নথি থাকে। সেগুলো বাইরে এলে দেশের সার্বিক সুরক্ষা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বোর্ড। তাই দেশের সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। যা না মানলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেছে এই বোর্ড।
বছর কয়েক আগে 'নো ইজি ডে' নামের একটি বই প্রকাশ পাওয়ার পর বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। বইটির লেখক মার্কিন নেভি সিল ম্যাথিউ স্কট বিসোনেট। যেখানে আল-কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ছিল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এমন অবস্থায় ভারতের কোন সিক্রেট সার্ভিস অভিযান কিংবা গোপন নথি ভিত্তিক তথ্য নির্ভর লেখা প্রকাশ্যে এলে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হতে পারে। তাই এমন উদ্যোগ বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।