অক্ষয় তৃতীয়া ২০২২; হিন্দুদের এই পবিত্র দিনটির মাহাত্ম্য , জানেন কী?

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 03/05/2022   শেষ আপডেট: 03/05/2022 4:27 p.m.
unsplash.com

পুরাণ-মতে কি কি ঘটেছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে, জেনে নিন

আজ ৩ মে, দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব, অক্ষয় তৃতীয়া। চান্দ্র-বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে, এই উৎসব পালন করা হয়। শুধু হিন্দু নয়, জৈন সম্প্রদায়ও এই দিনটি পালন করে থাকেন। হিন্দু ধর্ম মতে, অক্ষয় তৃতীয়া হল একটি বিশেষ তাৎপর্যবাহী দিন। বলা বাহুল্য, অবশ্যই এই দিনটি শুভ হিসেবে বিবেচ্য হয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় হিন্দু পরিবারের সদস্যরা সোনা, রুপা কিনে থাকেন। ব্যবসায়ীরা এই দিনে সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীকে আরাধনা করে থাকেন। পুরান থেকেই অক্ষয় তৃতীয়ার প্রচলন রয়েছে। এমনকি পুরাণের বিশেষ বিশেষ ঘটনাও ঘটেছে এই দিনটিকেই কেন্দ্র করে।

১) অক্ষয় পাত্র নির্মাণ - মহাভারতে, পান্ডবরা অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন, দুর্যোধনের বদ অভিসন্ধির শিকার হন। দুর্যোধন এবং শকুনি মামার মিলিত কূটনীতির প্রয়োগে, দুর্বাসা মুনি তাঁর শিষ্যগণকে নিয়ে পান্ডবদের আস্তানায় রওনা দেন। দুর্বাসা মুনির ক্রুদ্ধ রূপ জগদ্বিখ্যাত। কৌরবরা জানতেন অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন পাণ্ডবরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। খাদ্য ও বাসস্থানের পর্যাপ্ত উপকরণ তাদের কাছে উপস্থিত নেই। তাই তাঁরা দুর্বাসা মুনিকে পান্ডবদের ভবনে যাত্রা করার পরামর্শ দেন। এদিকে দুর্বাসা মুনি তাঁর শিষ্যগণকে নিয়ে পান্ডবদের গৃহে উপনীত হলেন। পান্ডব-জায়া দ্রৌপদী পড়েন মহাসংকটে। তাঁর ভান্ডার হয়ে আছে খাদ্য শুন্য! এমতাবস্থায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন। তিনি দ্রৌপদীকে নির্দেশ দেন, ফাঁকা পাত্রের যে একটুকরো চাল পড়ে আছে, তা দুর্বাসা মুনিদের দান করার জন্য! দ্রৌপদী তাঁর পরম সখার নির্দেশ মত সেই কাজ করতে গিয়ে দেখেন, পাত্রটি পরিপূর্ন হয়ে উঠেছে! এর ফলে শিষ্যসহ স্বয়ং দুর্বাসা মুনি পান্ডবদের আতিথেয়তায় স্বভাবতই তৃপ্ত হন। এবং পাণ্ডবরাও দুর্বাসা মুনির তোপের হাত থেকে রেহাই পান। কৃষ্ণ জানান, এই পাত্রটি স্বয়ং সূর্যদেবের অক্ষয় পাত্র! যা কোনোদিন আর অপূর্ন থাকবেনা।

২) কুবেরের যশপ্রাপ্তি - দীর্ঘ তপস্যার পর, মহাদেব তুষ্ট হয়ে কুবেরকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এই দিনে কুবেরের লক্ষী প্রাপ্তি হয়েছিল। তাই জন্য অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে বৈভব-লক্ষ্মীর পুজো করা হয়।

৩) মহাভারত লিখন - জানেন কী, কথিত আছে অক্ষয় তৃতীয়ার এই বিশেষ দিনই ছিল মহাভারত রচনার সূচনা! এই দিনেই মহাকবি বেদব্যাসের পরিচালনায়, গজেশ্বর গণেশ মহাভারত রচনা করেন।

৪) যুগের সূচনা - অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই সত্যযুগ শেষ হয়ে ক্রেতা যুগের আবির্ভাব ঘটে।

৫) গঙ্গার মর্তে আগমন - রাজা ভগিরথ, গঙ্গা দেবীকে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মর্ত্যে অবতরণ করান।

৬) দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব - জগতকে খাদ্য সঙ্কট থেকে মুক্ত করতে এবং খাদ্য ভান্ডারকে অক্ষত রাখতে, দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই।

৭) রথ নির্মাণ - অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই পুরীধাম জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে রথ তৈরীর আয়োজন শুরু হয়।

৮) চারধামের দ্বার উন্মোচন - কেদার, বদ্রী, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর মন্দির যে ছয় মাস বন্ধ থাকে, তার দ্বার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উন্মোচন করা হয়। দেখা যায় ছয় মাস আগে জ্বালিয়ে রাখা অক্ষয় দ্বীপ, এই দিনেও অক্ষত অবস্থায় প্রজ্জ্বল্যমান থাকে।

৯) সুদামার দুঃখমোচন - কৃষ্ণ সখা নিঃস্ব সুদামা, তাঁর অতি স্বল্প সম্বল খাদ্যের সামগ্রী চালভাজা, তাঁর প্রিয় সখা কৃষ্ণকে ভালোবাসার পরিচয় হিসেবে দান করেন। শ্রীকৃষ্ণ, সুদামার এই সখাপ্রেমে মুগ্ধ হয়ে, সুদামার দুঃখ মোচন করে, তাঁকে সামর্থবান বানিয়ে তোলেন।

১০) দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ - আজ সেই দিন, যে দিনটিকে কেন্দ্র করেই আস্ত মহাকাব্যটি রূপায়িত হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই দূঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখি 'কৃষ্ণা' ওরফে দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন।

বোঝাই গেল, কত দিক দিয়ে আজকের দিনটি বিশেষের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই আজকের দিনটিকে কেন্দ্র করে আপামর হিন্দু জাতি মেতে ওঠেন নিজেদের মত খুশিতে।