জাল নোটের আধিক্যের জন্য ২০১৯ থেকেই দু'হাজারের নোট ছাপানো বন্ধ করেছে কেন্দ্র !

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 16/03/2021   শেষ আপডেট: 16/03/2021 12:08 p.m.

"জাল করা মুশকিল" হয়েও গতবছরে উদ্ধার হয়েছে সবচেয়ে বেশি দু'হাজারের জাল নোট

সাল ২০১৬, মাস নভেম্বর, তারিখ ৮, গোটা দেশজুড়ে কালো টাকা ও নোট জালিয়াতি রুখতে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হল পাঁচশো ও হাজার টাকার নোট। হাজারের বদলে বাজারে এল দু'হাজারের নতুন নোট। বলা হয়, এই নোট জাল করা মুশকিল।অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে উত্তরোত্তর নোট জালিয়াতির পরিমাণ বেড়ে গত বছরে রেকর্ড পরিমাণ জাল নোট আটক করে সরকার, আর দু'হাজারি নোট চালুর তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাল করা হয় দু'হাজারের নোটই। আর এই বাস্তবসম্মত উদাহরণ সাক্ষ্য রেখেই লোকসভাতে অনুরাগ ঠাকুর স্বীকার করেন, গত দুই বছরে একটাও দুই হাজারের নোট ছাপায়নি কেন্দ্র। লিখিত রিপোর্টে উল্লেখ করেন বর্তমানে ২৪,৯৯০ লাখ দুই হাজারের নোট ঘুরছে দেশে যা মোট নোট সংখ্যার ২.০১ শতাংশ ও মোট সম্পদের ১৭.৭৮ শতাংশ।

কিন্তু কেন এই পদক্ষেপ? অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরো উঠে এসেছে, ২০২০-তে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজারের বেশি জাল নোট ধরা পড়েছে। গত তিন বছরে জাল নোট কমার বদলে উত্তরোত্তর ব্যপক হারে বেড়েছে। ২০১৮ তে ২.৬১ লক্ষ ও ২০১৯ এ ২.১৯ লক্ষ জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়। আচমকা এর মাত্রা একলাফে অনেক বেড়ে ২০২০ তে করোনাকালীন সময়ে ৮.৩৪ লক্ষে পৌঁছায়। এর মধ্যে ২,০০০ টাকার পরিমাণ সর্বাধিক। যে নোট জাল করা অসাধ্য বলে বিবৃতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার, তা বিপুল পরিমাণে জালিয়াতি হওয়ায় পরিস্থিতি এমনটাই দাঁড়ায় যে গত দু'বছরে নতুন করে কোনো দু'হাজারের নোট ছাপানোর বরাত নেয়নি কেন্দ্র। ২০১৮র মার্চে বাজারে বাজারে ৩৩৬ কোটি ২ হাজারের নোট ছিল যা ২০২১-এর ফেব্রুয়ারিতে তা ২৪৯ কোটিতে নেমে এসেছে। ২০১৯ এ আটক করা ২.১৯ লক্ষ জাল নোটের মধ্যে দু'হাজারের নোট প্রায় ৯০ হাজারের বেশী। আটক করা জাল নোটের সংখ্যাই এত হলে এখনো বাজারে ঘুরছে এমন জাল নোট মিলিয়ে সংখ্যাটা কি ভয়াবহ হবে তা ভেবেই দু'হাজারের নোট ছাপানো বন্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তড়িঘড়ি নোটবন্দি করে নতুন নোট বাজারে ছাড়ার যে উদ্দেশ্য কেন্দ্রের ছিল, তা কি আদৌ সফল হল? উঠেছে প্রশ্ন।