প্রতারণার নতুন ছক! নকল সিম কার্ড ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 07/03/2022   শেষ আপডেট: 07/03/2022 11:29 a.m.
WhatsApp

কলকাতা পুলিশের সতর্কবার্তা, এমন ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হতে আহ্বান করেছেন কলকাতা পুলিশ

প্রতারণার নতুন ছক। ইতিমধ্যেই ফাঁদে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। খোয়া গেছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এবার লালবাজার সাইবার ক্রাইমের তরফে দেওয়া হল এমনই সতর্ক বার্তা। আপনিও যদি এমন ফাঁদে পড়েন, তাহলে শিগগির যোগাযোগ করুন লালবাজার কিংবা নিকটবর্তী কোন থানায়।

কীভাবে হচ্ছে এই নতুন প্রতারণার জাল? লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাঁর নম্বরের সিম কার্ড নকল করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। গোটা ঘটনাই ঘটছে বহুল ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। জেনে নেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য। আর তারপরেই পাতা হচ্ছে প্রতারণার ফাঁদ।

শনিবার কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) তরফে একটি ভিডিও বার্তায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রথমে কারও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করা হচ্ছে। আর তারপর প্রতারক সেই অ্যাপটি তাঁর ফোনে ইন্সটল করছেন। আর যখনই সেই অ্যাপটি কোন ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখনই একটি অথেনটিকেশন কোড আর একজনের নম্বরে চলে যাচ্ছে। আর তারপরেই সেই ব্যক্তিকে মেসেজ করে বলা হচ্ছে, ভুল করে হোয়াটসঅ্যাপ অথেনটিকেশন কোডটি আপনার কাছে চলে গিয়েছে। আপনি যদি দয়া করে বলেন। আর যদি বলে দেন তো সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, তারপরেই শুরু হচ্ছে আসল খেলা। এবার সেই নম্বর থেকে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে অর্থ সাহায্য। আর পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে অর্থ সাহায্যের আবেদন পেয়ে সহজেই টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন তাঁর পরিচিত বন্ধু কিংবা আত্মীয়। পরে দেখা যাচ্ছে তিনি অর্থ সাহায্য চাননি। কেবল অর্থ সাহায্য নয়, হোয়াটসঅ্যাপে থাকা ব্যাঙ্ক ঋণের সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নতুন করে ব্যাঙ্ক ঋণের আবেদন করা হচ্ছে। যাঁর নামে ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়া হল, তিনি জানতেই পারলেন না। সম্প্রতি লালবাজারে এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা পড়েছে। আর তারপরেই কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম দফতরের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এমন ঘটনায় সতর্ক হন। হোয়াটসঅ্যাপের অথেনটিকেশন কোড কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এমন কোন অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গেই টেলি অপারেটিং সংস্থা কিংবা পুলিশের সাহায্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।