রাজ্যগুলি দৈনিক সংক্রমণের সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, করোনা নিয়ে রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মোদী

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 16/05/2021   শেষ আপডেট: 16/05/2021 12:38 p.m.
-

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার গ্রাম গুলিতে বাড়তি নজর দিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

করোনা (Covid-19) পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নাজেহাল অবস্থা। ঘরে-বাইরের চাপে কার্যত কোণঠাসা মোদী (Narendra Modi, PM) সরকার। বারবার পরিসংখ্যান তুলে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে দেশের করোনা পরিস্থিতি অতি উদ্বেগজনক। এই ব্যর্থতার দায় এবার মোদী সরকার রাজ্য গুলির উপর চাপাল। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যগুলি দৈনিক সংক্রমণ নিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না। আর তার জেরেই কেন্দ্রের পক্ষে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার দেশের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী একটি জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্য গুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি না করে যাতে তারা সঠিক তথ্য প্রকাশ করে, সে বিষয়ে উৎসাহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নাস্তানাবুদ কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিরোধী দলগুলি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব দান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারতের করোনা পরিস্থিতি যে অতি উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে বারবার সতর্ক করায় কেন্দ্রের তরফে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এমনকী সংঘের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠায় বাড়তি চাপে মোদী শিবির।

গতকাল কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলির উদ্দেশ্যে বেশকিছু নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের জেলাগুলিতে যেখানে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে পরীক্ষার হার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামে যাতে বাড়ি বাড়ি করোনা পরীক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে রাজ্য গুলির উপর দায়িত্ব চাপিয়েছেন মোদী সরকার। জেলাগুলিতে ছোট ছোট কন্টেনমেন্ট জোনে ভাগ করে করোনা পরীক্ষার উপর বাড়তি জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজে লাগানো, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে করোনা মোকাবিলায় অংশগ্রহণের কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদী। গ্রামাঞ্চলে হোম আইসোলেশন এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, আইসিএমআর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এমন অবস্থায় লকডাউনকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে বলেছিল আইসিএমআর। গতকাল মোদীর এই নির্দেশিকা পক্ষান্তরে আইসিএমআরের বক্তব্যের প্রতিফলন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।