বিশ্ব তামাক দিবস: পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ধূমপানের প্রভাব কি বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 31/05/2022   শেষ আপডেট: 31/05/2022 6:43 p.m.
unsplash.com

৩১ মে বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবস হিসাবে পালন করা হয়

প্রতি বছর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ৩১ মে বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবস পালন করে। তাঁদের লক্ষ্য হল তামাক ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। প্রতি বছর প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। এই সংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৮ মিলিয়নের উপরে চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দিবসের লক্ষ্য হলো তামাকের বিপদ এবং স্বাস্থ্যের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। তামাক প্রতিটি মানুষের অঙ্গকে প্রভাবিত করে এবং তামাক ব্যবহারকারীদের একাধিক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রকৃতপক্ষে ভারতে ১০ জনের মধ্যে ৯ জন‌ ক্যান্সার আক্রান্ত ফুসফুস, মাথা ও ঘাড়ে সংক্রমণের শিকার এবং এটি তামাকের জন্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কিছুবছর যাবৎ মহিলাদের মধ্যেও প্রচন্ডরকম ধূমপানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গুরগাঁওয়ের আর্টেমিস হাসপাতালের হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ বিশ্বজ্যোতি হাজারিকা বলেন, "এখন পর্যন্ত, হুক্কা বা বিড়ির মতো ভারতীয় রূপের তামাকের ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে মহিলাদের তামাক সংক্রান্ত ক্যান্সার বেশি দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে শহুরে নারীদের মধ্যে সিগারেট ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে আমরা তামাক সেবনের কারণে মহিলাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার বা মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের খুব বেশি ঘটনা দেখি না, তবে আগামী কয়েক বছরে এটি পরিবর্তন হতে চলেছে।"

উদ্বেগের কথা তুলে ধরে, হিন্দুজা হাসপাতালের কনসালটেন্ট পালমোনোলজিস্ট এবং এপিডেমিওলজিস্ট ড. ল্যান্সলট পিন্টো বললেন, "১৫ বছরোর্ধ্ব আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ভারতীয় মহিলা তামাক সেবন করেন, যার বেশিরভাগই ধোঁয়াবিহীন/চিবানো তামাক (SLT)। এটি উদ্বেগজনক কারণ যে মহিলারা তামাক সেবন করেন তাদের পুরুষদের তুলনায় মুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৮ গুণ বেশি, হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা ২-৪ গুণ বেশি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।"

ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ধূমপান ত্যাগ করা কঠিন বলে মনে হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ধূমপান ত্যাগ করা একজন মহিলার পক্ষে কঠিন হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। উল্লেখ রয়েছে, "দৈনন্দিন চাপের সাথে মোকাবিলা করার জন্য তাঁরা এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং কিছু মহিলাও বিশ্বাস করে যে এটি তাকে ওজন কম রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এগুলি সবই বিপজ্জনক।"

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই ধূমপানকে আলাদাভাবে দেখেন। পুরুষরা নিকোটিনের শক্তিশালী প্রভাবের জন্য ধূমপান করেন, যখন মহিলারা তাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে বা সামাজিক পরিবেশে ফিট করার জন্য ধূমপান করেন। এটাও দেখানো হয়েছে যে স্ট্রেসড হয়ে পড়লে মহিলারা সিগারেট বেছে নেন। এবার এটা নিজেকে আধুনিক প্রমাণ করতে নাকি অন্য কোনো কারণে তা জানা নেই। ডাঃ বিনীত গোবিন্দ গুপ্ত জানাচ্ছেন, "এতদিন ধূমপাণে পুরুষদের একচেটিয়া অধিকার ছিল কিন্তু বিংশ শতকে এসে শহরে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক শহুরে মহিলারা সিগারেট পান করতে শুরু করেছে। তবে, ধূমপায়ী মহিলারা এর প্রভাব আর‌ও ২০ বছর পর টের পাবে।" তিনি ধূমপান ত্যাগ করার জন্য বেশ কিছু টিপস দিয়েছেন। তিনি বলছেন, "ব্যস্ত থাকার উপায়গুলি সন্ধান করা, চিউইং গাম খাওয়ার চেষ্টা করুন, প্রচুর জলপান করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, সিগারেটপ্রেমী বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ ত্যাগ করুন। সর্বোপরি ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার রেজোলিউশন নিন।"