কবে নাগাদ বাজারে মিলবে কোভিড ১৯ প্রতিষেধক?

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: 25/08/2020   শেষ আপডেট: 19/09/2020 1:54 a.m.

বিশ্বের ১৭০ টিরও বেশি গবেষকের দল করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের গবেষণা চালাচ্ছে। এর মধ্যে কোন দেশের গবেষণা প্রথম সাফল্যের স্বীকৃতি পায় এখন সকলের চোখ সেদিকে!

অতিমারীর মোকাবিলা করতে বিশ্বের কম বেশি প্রায় প্রতিটি দেশের গবেষক চিকিৎসকরা নিজেদের মতন করে প্রতিষেধক টীকা আবিষ্কারের কাজে মনোনিবেশ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে এখনও পর্যন্ত ১৭০ টিরও বেশি সংখ্যক করোনা প্রতিষেধক টীকার হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

সাধারণত এইসব অতিমারী প্রতিষেধক টীকা একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আবিষ্কৃত হতে বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর রয়েছে তার মানব দেহে সফল প্রয়োগ। কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করা ইত্যাদি। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু আলাদা। বিশ্ব জুড়ে অতিমারীর ফলে সৃষ্টি হওয়া প্রতিকূল পরিস্থিতিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক করার জন্য গবেষকরদের আন্দাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই কোভিড ১৯ প্রতিষেধক টীকা বাজারে মিলবে। কথায় আছে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হয়। এখানেও বিষয়টা খানিকটা একরকম। ভাইরাস প্রতিরোধক টীকা আসলে ভাইরাসের কাজের ধরণকে অনুকরণ করেই শরীরে কাজ করে। তবে ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অ্যান্টিবডি গঠনে সহায়তা করে। যেহেতু পরীক্ষামূলক ভাবে লক্ষাধিক সুস্থ্য মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করা হয় তাই এই ভ্যাকসিন সবসময়ই উচ্চ গুণমান সম্পন্ন হয়ে থাকে।

ভ্যাকসিন বা টীকা পরীক্ষা করা হয় কী উপায়ে?

  • প্রি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে, গবেষকরা পশুদের শরীরে টীকা প্রয়োগ করে দেখে নেন যে পশুদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়েছে কিনা।

  • ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ে, খুব অল্প সংখ্যক মানুষের শরীরে এই টীকাকরণ করে দেখা হয় তাদের শরীর স্বাস্থ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য রকমের পরিবর্তন হয়েছে কিনা এবং তাদের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় কোনো প্রভাব পরেছে কিনা।

  • ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়ে শ’খানেক মানুষের শরীরে টীকাকরণ করা হয় যাতে গবেষকরা বুঝতে পারেন যে টীকায় ব্যবহৃত ওষুধের পরিমাণ সঠিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত ছিলো কি না।

  • ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অন্তিম পর্যায়ে প্রায় হাজার খানেক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এই পর্যায়ে দেখা হয় মনুষ্য ভেদে বিরল কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিশেষ কোনো উপকারীতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে কিনা।