নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল না, উনি বাহানা খুঁজছিলেন : সরব পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী
সাড়ে সাত বছরের শাসনকালে এই প্রথম নিরাপত্তার অভাবে নরেন্দ্র মোদি
বুধবার পঞ্জাবের হুসেইনিওয়ালায় জাতীয় শহিদ স্মারকে একটি কর্মসূচির পর ফিরোজপুরে একটি জনসভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর (PM)। পরিকল্পনা ছিল, ভাতিন্দা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টার করে গন্তব্যে পৌঁছবেন তিনি। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বিমানবন্দর থেকে গাড়িতেই সড়কপথে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যাত্রাপথে অবরোধের জেরে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ফিরে আসতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi)। শুধু তাই নয়, ওই যাত্রাপথে একটি উড়ালপুলে ১৫-২০ মিনিট আটকে ছিল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। তার পর সেখান থেকে কনভয় ঘুরিয়ে বিমানবন্দরে ফিরে আসতে হয় মোদীকে।
এই ঘটনার পরেই শুরু তুমুল উত্তেজনা। স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ। সাড়ে সাত বছরের শাসনকালে এর আগে এভাবে কখনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় পড়তে হয়নি প্রধানমন্ত্রীকে। কেন পঞ্জাব সরকার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেননি, কেন আগে থেকে রাস্তার অবরোধ সরানো হয়নি? উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই পুরো ঘটনাকে বড়সড় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বিজেপি।
ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ চন্নীর পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি। এই ঘটনার পরে সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরাণি বলেন, "নিরাপত্তায় গলদের জন্য ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি দেশে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের জন্য রাস্তা ফাঁকা করা স্থানীয় পুলিশের কাজ। তা কেন করা হল না? এটা চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু না। আমরা পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।"
যদিও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ চন্নীর দাবি, ‘‘গত এক বছর ধরে কৃষকরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছেন। পঞ্জাব সরকার গতরাতেও কৃষকদের সাথে কথা বলেছে। তারপরেই তারা তাদের আন্দোলন আজ শেষ করেছে। তবে আজ, হঠাৎ করে কিছু আন্দোলনকারী ফিরোজপুর জেলায় জড়ো হয়েছিল। তবে এর জেরে নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল না। উনি বাহানা খুঁজছিলেন।’’
যদিও এই ঘটনার পর বিমানবন্দরে ফিরে আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে মোদী বলেন, ‘‘বেঁচে ফিরতে পেরেছি, এই অনেক! এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমার হয়ে ধন্যবাদ জানাবেন।"