‘চলি চলি চলি চলি, পথের যে নাই শেষ/ গুপি আছে বেশ!’ গুপির সেই পথ খানিক দূরে গিয়ে থমকে গেলেও সত্যেনবাবুর পথ যে খুব তাড়াতাড়ি ‘শেষ’ হবে না তা বলাই বাহুল্য। রাজারহাটের সত্যেন দাস। পেশা – রিকশাচালক। নেশা – তাঁর প্রিয় তিনচাকার সওয়ারী হয়ে দূর দুরান্তে ঘুরে বেড়ানো। তবে এ দূর যে সে দূর নয়। এক্কেবারে সমুদ্র থেকে পাহাড়ে। রিক্সা নিয়ে এর আগেই তাঁর ঘোরা হয়ে গেছে লাদাখ। সেই লাদাখ, যেখানে আমার, আপনার মতো বাইক সওয়ারীরা আকছার যাওয়ার স্বপ্নও দেখে থাকেন। তিনিও গেছেন, তবে যন্ত্র আর পকেটের জোরে নয়, পায়ের জোরে। এবার সেই সত্যেনের নতুন মিশন – সিয়াচেন সীমান্ত।
রবিবারই তাঁর যাত্রার শুভ সূচনা হয়। উৎসাহ জোগাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি। বয়সে সত্যেন দাস দু কুড়ি দশ পেরিয়েছেন। কিন্তু মন আর শারীরিক সামর্থ্যতার বিচারে তিনি এখনও সদ্য যুবক। তাঁর লাদাখ যাওয়ার উপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে, ‘লাদাখ চলে রিকশাওয়ালা’। বহু মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছে সেই তথ্যচিত্র। পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারের মতো সম্মান। এত বিশিষ্ট হয়েও তিনি কিন্তু ভুলতে পারেননি তাঁর তিন চাকার এই সঙ্গীটিকে। তাই তো আবার তিনি বেরিয়ে পড়লেন। সঙ্গে নিলেন, সাত হাজার কিলোমিটারের চ্যালেঞ্জ আর নিজের দুটি বিশ্বস্ত পায়ের উপরে ভরসা।

তবে এবার শুধুমাত্র ভ্রমনই তাঁর এই যাত্রার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, সত্যেনবাবুর সাথে আছে আরও এক মহৎ উদ্দেশ্য। তিনি তাঁর পুরো যাত্রাপথেই মানুষকে সচেতন করবেন পরিবেশ সম্পর্কে। বলবেন আরও গাছ লাগানোর কথা। বার্তা দেবেন সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার। সাথে করোনা মহামারীর সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর সমগ্র যাত্রাপথে মাস্ক ও বিলি করবেন তিনি। তিনি থামবেন না। তাঁর জীবনের লক্ষই যে ‘চরৈবেতি…চরৈবেতি…’।